নিজের রক্ত অন্যকে দেওয়া বা দান করা অথবা বিক্রি জায়েজ হবে কিনা ?
প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম!
শায়েখ আমার জানার বিষয়, একজন মানুষ ইচ্ছা করলেই কি অপর একজন রক্তদান করতে পারবেন?
উত্তর :
وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمْ وَ رَحْمَةُ اللّٰهِ وَ بَرَكَاتُهْ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
حَامِدًا وَّمُصَلِّيَا وَّمُسَلِّمًا أمّٰا بَعَدْ
প্রয়োজনে রক্তদান করা কোন বাধা নেই। মানুষের জীবন বাঁচানো স্বার্থে এরূপ সাহায্যে সন্দেহে নেবীর কাজ।
(1) - إنّما المؤمنون إخوة '
(1) অর্থ :
মুমিন গণ তোমার পরস্পর ভাই ভাই।
(আল কুরআন সুরা হুজরাত আয়াত নং ১০)
(2) حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَالِمًا أَخْبَرَهُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي فَيحِيَةِ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجِيهِةِ حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ»
(2) অর্থ :
ইয়াহইয়া ইবনে বুকার (রাহঃ) .... আবদুল ইবনে উমর (রাযঃ) থেকে একাধিক, দলের সদস্য (ﷺ) লেখকঃ আপনার ভাই। সে তার উপর ইউলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না।
যে কেউ তার ভাইয়ের ভক্ত পুরণ করবে তার অভাব পূরণ করবে। যে ব্যক্তি (পৃথিবীতে) কোন অবস্থার বিপদ হবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার গোপন রাখবে।
( সহি বুখারী - কিতাবে সংখ্যা : ২২৮০ :
আন্তর্জাতিক নং: ২৪৪২ : মিকাতুল মাসাবীহ আন্তর্জাতিক নং ৪৯৫৮)
(3) وَعَنْ جَابِرٍ وَحُذَيْفَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ مَعْرُوف صَدَقَة»
(৩) অর্থ:
হযরত জাবের ওহোযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসুল পুলিশ ছাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন। ভাল কাজই একটি দান।
(মিশতুল মাসাবীহ, সদস্য নং ১৮৯৩)
তাই একজন ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই গুরুতর রক্তদান করতে পারে। তবে একজন সদস্য (প্রয়োজন ও কারণ ছাড়া)
যেমন : যোগের বৃদ্ধি বা স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য রক্তের স্থানান্তরিত করা হারাম। জীবন বাঁচানোর জন্য রক্ত দেওয়া শুধু জায়েজ নয় বরং সওয়াবের কাজ ।
বিনা প্রয়োজনে কাউকে রক্ত দেওয়া যাবে না , বা বিক্রি করা যাবে না , আমাদের শরীরে যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহর দান, তাই প্রয়োজন হলেই কেবল রক্ত দেওয়াটা জায়েজ হবে তা না হলে তা হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদিসে বলেছেন এবং আল্লাহ তায়ালাও কোরানুল কারীমে বলেছেন মানুষ মানুষকে ভালোবাসো অন্য জীব জানোয়ারদেরকে ভালোবাসো , কাউকে অন্যায় ভাবে কষ্ট দেওয়াটা কোনভাবেই ঠিক নয়।
দুঃখের বিষয় হলো এটাই , সামান্য একটু সূচের আঘাত সহ্য না করার ভয়ে অন্যদেরকে রক্ত দিতে সংকোচ করি অথচ আমার আপনার একটু সুচ এর আঘাতের ফলে কত প্রাণ বেঁচে যাবে।
শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবীতে অনেক রোগী আছে যাদের প্রতি তিন মাস অথবা দুই মাস পর পর রক্ত নতুন করে ভর্তি হয় এক ব্যাগ নয় দুই প্যাক নয় বরং কয়েক ব্যাগ রক্ত লাগে আমি আপনি হয়তো সোচ এর আঘাত লাগবে এর ভয়ে দেই না।
কিন্তু এমন বান্দা দুনিয়াতে রয়েছে যারা রক্ত দিতে প্রস্তুত যদি সমস্যা না হত অর্থাৎ রক্ত দেওয়ার নিয়ম তিন মাস পর পর। তাহলে ওই সমস্ত আল্লাহর বান্দারা প্রতি মাস রোগীদের কে রক্ত দিতো।
রক্ত দেওয়ার উপকারিতা।
আমরা জেনে থাকি তিন মাস অন্তর অন্তর মানুষের রক্ত চেঞ্জ হয় মানে খারাপ থেকে ভালো হয়। অর্থাৎ নতুন করে রক্ত শরীরে হয় ।
আর যদি কোন ব্যক্তিকে রক্ত দেওয়া হয় এটার মাধ্যমে এক নাম্বার হল সওয়াব পাওয়া যায় অন্য মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য একটি জীবন বাঁচানোর জন্য,
নাম্বার দুই শরীরে নতুন রক্ত তৈরি হয়।
নাম্বার তিন মানবিক কাজ সংগঠিত হয় যা নিজের মর্যাদা তাকে বৃদ্ধি করার জন্য অন্যতম একটি পথ।
যদি কেউ মানুষের সাথে বেশি বেশি পরিচিত হতে চাই সে যেন মানুষদেরকে খোঁজখবর নেই তাদের সমস্যা গুলো দরকার চেষ্টা করে তাদের পাশে দাঁড়াই তাদেরকে সহযোগিতা করে ।
এ কয়েকটি কাজের মাধ্যমে মানুষের মাঝে অতিসত্বর তার মর্যাদা ও পরিচিতি লাভ করবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করার তৌফিক দান করুন আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রধানের : হাঃ মাঃ মুফতি মোহাম্মদ হাসবুল
ইসলাম
আপনার যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি মেইল করতে পারেন ।
ইমেইল করার নিয়ম ।
আপনার নাম, ইমেইল, এবং আপনার যে সমস্যাটি সমাধান জানতে চান বা নিতে চান সে বিষয়টি সুন্দর করে উপস্থাপন করুন গুছিয়ে অল্পস্বল্প ভাবে লেখার চেষ্টা করুন যাতে করে আমাদের বুঝতে সুবিধা হয়।
সর্বপ্রথম আপনার যে সমস্যাটির সমাধান নিতে চান সেটি আমাদের ওয়েবসাইটে খুঁজে দেখবেন হয়তো থাকতে পারে তাহলে আর জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।
যদি না থাকে তাহলে অবশ্যই সুন্দরভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে পাঠিয়ে দিবেন এটা একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই কিছুটা সময় লাগতে পারে ।
দুই এক দিনের মধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসবেন এবং আপনার কাঙ্খিত প্রশ্নটি একটু অনুসন্ধান করার চেষ্টা করবেন ইনশাল্লাহ অবশ্যই পেয়ে যাবেন এভাবে সকল সমস্যার সমাধান গুলো নিতে পারবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করুন