গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট

মুরগিকে কৃমির ডোজ করানোর সঠিক নিয়ম । সঠিক পদ্ধতিতে মুরগিকে কৃমির ঔষধ খাওয়ান। মুরগির কৃমির ওষুধ


 মুরগিকে কৃমির ডোজ করানোর সঠিক নিয়ম ।



সঠিক পদ্ধতিতে মুরগিকে কৃমির ডোস করানোর সঠিক নিয়ম


আজ আলোচনা করব কোন বয়সে মুরগিকে কোন কোন মেডিসিন দিয়ে কৃমির ডোজ করাতে হয় যা অবশ্যই কার্যকর হবে তার সাথে ব্যবহারের নিয়ম এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনাকে মানতেই হবে। 

মুরগি কৃমির ডোজ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যদি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে সঠিক ঔষধ দিয়ে করাতে না পারেন তাহলে আপনার ওষুধ কোনভাবেই কার্যকরী হবে না ।


সেটা যত দামি ওষুধ হোক না কেন সেজন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কখন কোন সময় কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম

কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর  বয়সটা নির্ধারণ হবে মুরগির জাতের উপর নির্ভর করে। 

(১) দেশি মুরগি "" এক থেকে নিয়ে ৪০/৪৫ দিন পরে, অর্থাৎ মুরগির বয়স যখন ৪০ অথবা ৪৫ হবে তখন কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে । 

(২) টাইগার মুরগি "" এক থেকে নিয়ে ৩০ কিংবা ৩৫ দিন বয়স যখন হবে তখন কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। 

(৩) সোনালী মুরগি, ""এরমধ্যে সোনালী জাতের মুরগি আছে সোনালী হাইব্রিড সোনালী ক্লাসিক সোনালী সুপার হাইব্রিড ইত্যাদি মুরগির জন্য । এক থেকে নিয়ে ৩০ /৩৫দিন পর কৃমির ডোজ সম্পন্ন করবেন অর্থাৎ যখন ৩০/৩৫ দিন বয়স হবে তখন ।

(৪) মিশরীয় ফাউমি, সাদা ফাউমি পাকিস্তানি মুরগি, কালার বার্ড, বেশি- বিদেশি যেগুলো নাম জানি অথবা জানি না এ জাতীয় মুরগির ক্ষেত্রে ৪০ দিন বয়স যখন হবে তখন কৃমির ডোজ করাবেন ।

(৫) ব্রয়লার পোল্ট্রি মুরগি "" এদের বয়স যখন ২০ কিংবা 22 দিন হবে তখন কৃমির ডোজ করিয়ে নিবেন। 

(৬) লেয়ার ও সাদা লেয়ার "" এদের বয়স যখন 40 কিংবা ৪৫ দিন হবে তখন কৃমির ডোজ করে নিবেন অথবা কৃমির ঔষধ খাওয়াবেন।

যেকোন মুরগিকে প্রত্যেক দুই মাস অন্তর অন্তর কৃমির ওষুধ খাওয়ালে মুরগির গ্রোথ ভালো থাকে এবং সহজে রোগ আক্রান্ত হয় না । 

কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম

 দুই ধরনের মুরগির জন্য দুই ধরনের পদ্ধতি অর্থাৎ বলতে চাচ্ছি যারা খামারি তাদের জন্য এক পদ্ধতি এবং যারা উন্মুক্ত অবস্থায় পালন করেন তাদের জন্য আরেক পদ্ধতি নিজ নিজ পদ্ধতি ফলো করতে হবে।

যারা খামারী তাদের কথা আগে বলি। অর্থাৎ খামারিরা কিভাবে কৃমির ডোজ করাবেন 

কৃমির ওষুধ অন্যান্য ওষুধের মতো দুই বেলা অথবা তিন বেলা দেওয়ার নিয়ম নেই , এক বেলা দিতে হয় সেজন্য বুঝে শুনে দিতে হবে। 

সময়টা কত হবে ঠান্ডা সময় অর্থাৎ যদি শীতকালে করেন তাহলে যে কোন সময় করলেই হল আর যদি গরমকালে কৃমির ডোজ করান তাহলে অবশ্যই সকালবেলা করাতে হবে যেহেতু সকাল বেলা ঠান্ডা থাকে। 

যখনই করান খালি পেট থাকতে হবে। 

সবচাইতে সহজ হয় সকালবেলা করানো কারণ সকাল বেলা এমনিতেই পেট খালি থাকে। 

যেদিন কৃমির ডোজ করাবেন সেদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠবেন অর্থাৎ ফজরের সময় ওঠার পর খাবার ও পানির পাত্র সরিয়ে ফেলবেন কৃমির ঔষধ দেওয়ার অন্তত এক থেকে দেড় ঘন্টা আগে সরিয়ে নিবেন এর মাঝে কোন খাবার দিবেন না ।

এক থেকে দেড় ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর ঔষধ পরিমাণ অনুযায়ী পানির সাথে মিক্সচার করবেন । 

এবং মুরগির সামনে পরিবেশন করবেন ঔষধ মিশ্রিত পানি তিন থেকে চার ঘন্টা পর্যন্ত মুরগির সামনে রেখে দেবেন। 

কৃমির ঔষধ মিশ্রিত পানি দেওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর খাবার দিবেন । 

কৃমি নাশকের জন্য কোন কোন ওষুধ সবচেয়ে বেশি ভালো 

(১) পেরা ভেট""
এই ওষুধটি 1 থেকে নিয়ে ৪০ দিন বা 50 দিন বয়সে বাচ্চাদের জন্য ভালো উপযোগী ওষুধ। তবে বড় মুরগি কেউ খাওয়াতে পারে না সে ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। 

(২) এভিনেক্স "" 
এই ওষুধটি ৬০ থেকে নিয়ে এর উর্ধ্বে যত বয়সে মুরগি আছে তাদের জন্য ভালো উপযোগী এটা অনেক পাওয়ারফুল হওয়াতে ছোট মুরগিকে খাওয়ানো উচিত নয়।

(৩) লেমিভেট "" 
এই মেডিসিন টাও ভালো কাজ করে থাকে এটাও ৬০ অথবা এর উর্ধ্বে বয়সী মুরগীর জন্য।

কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পরিমাণ

  এক থেকে নিয়ে ৪০ কিংবা ৪৫ তম দিনের যেকোনো বাচ্চার জন্য অর্থাৎ সেটা যে জাতের মুরগি হোক না কেন তার পরিমাণ হলো ।

দের গ্রাম ঔষধ এক লিটার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে এখন মুরগি যদি অল্প হয় তাহলে অল্প পরিমাণ ওষুধ নিবেন অল্প পরিমাণ পানি নিবেন অর্থাৎ যে হিসাব দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। 

ষাট অথবা ৬০ এর উর্ধ্বে মুরগির জন্য দই থেকে আড়াই গ্রাম ঔষধ এক লিটার পানিতে ব্যবহার করবেন মুরগি কম হলে ওষুধ এবং পানি সে অনুমান হিসেবে নিয়ে নেবেন ।


উন্মুক্ত অবস্থায় মুরগি পালনকারীদের জন্য কৃমির ডোজ করানোর সঠিক নিয়ম 

উপরে উল্লেখিত ঔষধের পরিমাণ সময় সবকিছু একই তবে খাওয়ানোর পদ্ধতিটা ভিন্ন। 
খামারের মধ্যে যেকোনো সময় পৌঁছত দেওয়া যায় তার কারণ হলো মুরগি সবসময় আবদ্ধ অবস্থায় থাকে 

যেহেতু উন্মুক্ত অবস্থায় মুরগী পালন করেন সেজন্য মুরগি সব সময় থাকে না অর্থাৎ দিনের বেলা মুরগি ধরা যায় না দেখাও যায় না কোন ওষুধ খাওয়াও সম্ভব না। 

এবং যে সকল মুরগিকে উন্মুক্ত অবস্থায় পালন করা হয় সেগুলো পানীয় ঠিকভাবে খাই না এটা একটা বড় সমস্যা।

এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য সুন্দর একটি পদ্ধতি বের করা হয়েছে। 

সকাল বেলায় যখন মুরগি ছেড়ে দেবেন তার আগে মিক্সার খাবারের সাথে কৃমির ওষুধ মিশিয়ে দিবেন পরিমাণ অনুযায়ী মিক্সার খাবার বলতে কয়েকটি খাবার একসাথে করে হালকা একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে মেখে নেবেন।

 খাবারের সাথে ওষুধ দিলে ওষুধের পরিমাণটা একটু ভিন্ন ।
মুরগির বয়স এক থেকে নিয়ে ৪০ তম দিন এগুলোর ক্ষেত্রে এক কেজি খাবার সাথে দুই থেকে আড়াই গ্রাম ঔষধ মিক্সার করবেন। 

এগুলোর বয়স ৬০ অথবা এর উর্ধ্বে তাদের ক্ষেত্রে এক কেজি খাবারের সাথে তিন গ্রাম অথবা সাড়ে তিন গ্রাম ওষুধ মিক্সার করবেন । এভাবে ওষুধগুলো খাওয়াবেন। 

কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পর কি কি ওষুধ খাওয়াতে হয়

যদি নিম্নে ওষুধ গুলো খাওয়ান তাহলে কৃমির ওষুধের কার্যকর অনেকটাই বৃদ্ধি পায় এবং ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
(১) লিভার টনিক "" 
এটা যে কোন কোম্পানির হতে পারে তবে নাম নিচে লেখা থাকবে লিভার টনিক , অর্থাৎ ঔষুধের নাম ভিন্ন হতে পারে ওষুধের নামের নিচে ছোট করে অবশ্যই লেখা থাকতে হবে লিভার টনিক তাহলে আপনি বুঝে নেবেন এ ওষুধটি কথাই বলা হয়েছে। 

(২)জিংক "" 
দ্বিতীয় নাম্বারে ওষুধ ব্যবহার করতে হবে ।
এগুলোর দাম খুবই অল্প 

কৃমির ঔষধ দেওয়ার ছয় থেকে সাত ঘন্টা পর এই দুইটা ওষুধ সাথে দিবেন প্রতিটা থেকে এক মিলি ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে দিবেন। 
ঔষধ মিশ্রিত পানি ৫ ঘন্টা পর্যন্ত রাখবেন এভাবে সকাল-বিকাল ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলবে। 

কৃমির ওষুধ খাওয়ালে কখনো কখনো জ্বর আসতে পারে আর এটাই স্বাভাবিক । জ্বর আসলে ফাস্ট ভেট ট্যাবলেট অথবা পাউডার উভয়টি পাওয়া যায়। 

একটি ট্যাবলেট পাঁচ লিটারের সাথে মিশানোর নিয়ম আর পাউডার হলে এক গ্রাম পাউডার ১ লিটার পানিতে সবগুলো ওষুধ একত্রে মিশিয়ে খাওয়াবেন। 

ওষুধের দাম একুরেট এখানে লেখা যাচ্ছে না যেহেতু ওটা নামা হতে পারে আনুমানিক ধারণা দিতে পারি সঠিক নিয়মে সবগুলো ঔষধ দিয়ে ডোজ করাতে ২০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে ।

কৃমির ওষুধ কেন খাওয়াবেন

কৃমির ওষুধ নিয়মিত অর্থাৎ বয়স অনুযায়ী খাওয়ালে মুরগির গ্রোথ ভালো থাকে ডিম পাড়া মুরগি হলে ঠিকভাবে ডিম দেয় অনেক সময় কৃমির সমস্যার কারণে মুরগি গুলো ভালোভাবে ডিম দেয় না। 

স্বাস্থ্য ভালো থাকে রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় না। 

তাছাড়া আরো অনেক উপকারী রয়েছে। 

তাই নিয়ম অনুযায়ী আপনার মুরগিকে কৃমির ডোজ সম্পন্ন করুন।

( মোঃ হাসিবুল ইসলাম) ব্যবস্থাপক খামার বাড়ী 

 ভিডিওতে প্রত্যেকটা বিষয়ে স্টেপ বাই স্টেপ বলে দেওয়া হলো দেখে কৃমির ডোজ সম্পন্ন করুন এবং মুরগিকে সুস্থ রাখুন 

মুরগি পালনের পিডিএফ বই ফ্রিতে ডাউনলোড করুন 



 আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ফলো দিয়ে রাখুন 


📮📮আজকের এই ভিডিওটির মাধ্যমে আপনারা জানতে পারলেন কিভাবে মুরগিকে কৃমির ডোস করাতে হয়।
আপনার মুরগির সুস্থতার জন্য সঠিক নিয়ম ও সময় অনুযায়ী মুরগিকে কৃমির ডোজ করান ।💯💯

✔️✔️যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য সরাসরি আমাদের পাবলিক সাপোর্ট টিমে যোগাযোগ করুন। ✔️✔️📲
✅✅

প্রিয় উদ্যোক্তা 🥰 
:আপনার মেসেজটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ :
আমাদের কাছে পাবেন মুরগি পালনের বই 
✅(১) PDF Book TK 130 এই বইটির মাধ্যমে শুধুমাত্র মাংসের জন্য পালন করতে পারবেন 
( ৫৫ টি অধ্যায় পৃষ্ঠা ৭৩ )

✅(২) মূল বই TK 260 এই বইটির মাধ্যমে মাংস ও ডিম উভয়টি খামার করতে পারবেন । 
( ৬৫ টি অধ্যায় পৃষ্ঠা ৮০ )
বই গুলোতে আপনি খামার সংক্রান্ত সকল বিষয় পাবেন ।

🆗সেই সাথে আপনি একটি প্রাইভেট সাপোর্ট টিম পেয়ে যাবেন যার মাধ্যমে আপনি খামার সংক্রান্ত সকল বিষয় সহায়তা নিতে পারেন 

বইগুলো অর্ডার করতে
WhatsApp number:
01998188099

মন্তব্যসমূহ